চাহিদা বেড়ে গেছে ঢাক-ঢোলের

0
60

বৈশাখ আসার আগেই চাহিদা বেড়ে গেছে দেশিয় বাদ্য যন্ত্র ঢাক ঢোলের।
এরই মধ্যে শুরু হয়েছে পুরোনো ঢাক,ঢোল,করকা,তবলা,খোল,একতারা,খমর,খঞ্জুনি,দো-তারা,লাল,ঢোলক,ডমরু সহ সাইড ড্রাম মেরামতের কাজ। নতুন ঢাক ঢোলের অর্ডারে হিমসিম খাচ্ছে ঢাক ঢোল পল্লীর লোকজন। কারন অতি সন্নিকটে পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখে সারা দেশের ন্যায় রংপুরের বদরগঞ্জও সাজবে বর্নিল সাজে। আবহমান কাল ধরে এই ১লা বৈশাখকে বুকে ধারন লালন করে আসছে বাঙ্গালীরা। এ কারনে ডাক ঢোল পল্লীতেও যেন আজ সাজ সাজ রব।
সরেজমিনে পৌরশহরের জামুবাড়ি ফারায়সার্ভিস মহল্লায় গিয়ে দেখা যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন ঢাক ঢোল মেরামতের কারিগররা।
এ সময় কথা হয় বাদ্য যন্ত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান দুই ভাই রতন দাস(৫৬) ও সুরেশ দাসের(৪৬) সাথে।
তাদের আদি জন্ম নিবাস টাঈাইল জেলায়। জন্মের পর হতে বাবা রাজেন্দ্র দাস ও দাদুকে দেখেছেন দেশিয় বাদ্যযন্ত্র তৈরি করতে। তাদের কাজে সহয়োগিতা করতেন তাদের মা আমাপতি দাস(৯১)। ওই সময় দেশিয় বাদ্য যন্ত্রের চাহিদা এত বেশি ছিল যে দম নেয়ার সময় ছিল না তাদের। সময়ের সাথে সাথে আধুনিক বাদ্য যন্ত্রের সাথে পাল্লা দিতে না পেরে ব্যবসা বন্ধের উপক্রম হয়। তাই স্বাধীনতার পর বাধ্য হয়ে বাবা রাজেন্দ্র দাস টাঈাইল জেলা হতে রংপুরের বদরগঞ্জে চলে আসেন। শুরু করেন দেশিয় বাদ্য যন্ত্র ঢাক,ঢোল,করকা,তবলা,খোল,একতারা,খমর,খঞ্জুনি,দো-তারা,লাল,ঢোলক,ডমরু সহ সাইড ড্রাম তৈরি ও মেরামতের কাজ।
পিতা রাজেন্দ্র দাস মারা যাওয়ার পর দুই ভাই রতন দাস ও সুরেশ দাস একসঙ্গে বাবার ব্যবসা পরিচালনা করলেও ব্যবসা দিয়ে দুই পরিবারের ভরন-পোষন কষ্ট সাধ্য হয়ে পড়েছিল এ কারনে সুরেশ দাস গাইবান্ধা জেলার লক্ষ্মিপুরে বসতি গেড়ে দেশিয় বাদ্য যন্ত্রের ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
রতন দাস জানান;পহেলা বৈশাখে বেড়ে যায় দেশিয় বাদ্য যন্ত্রের চাহিদা। কারন হিসেবে তিনি বলেন,দেশের প্রায় প্রতিটি জায়গায় পহেলা বৈশাখে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে থাকে।
এগুলো অনুষ্ঠানে দেশিয় বাদ্য যন্ত্রের চাহিদা অনেক বেশি।
তিনি জানান;কার্তিক মাসে হিন্দু সম্প্রদায়ের যে সমস্ত লোক গ্রামে গ্রামে কীর্তন করে বেড়ায় এরাই মূলতঃ দেশিয় বাদ্য যন্ত্রের ক্রেতা। তাছাড়াও বাসাবাড়ি,বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের লোকেরা কিছু কিছু করে ক্রয় করেন।
তিনি আরও জানান; এসব দেশিয় বাদ্যযন্ত্র বিক্রি হয় ২শত টাকা হতে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। সাধারন ঢুলিদের কাছে তিনি কম দামে বাদ্য যন্ত্র বিক্রি করেন।
বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বিমলেন্দু সরকার জানান;পহেলা বৈশাখে দেশিয় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার অনেক বেড়ে যায়। দেশিয় বাদ্যযন্ত্রগুলোকে টিকিয়ে রাখতে হলে এর আধুনিকায়ন যেমন জরুরি,তেমন জরুরি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতাও। তা না হলে বাংলার ঐতিহ্য ঢাক-ঢোল,তবলা একতারা,দো-তারা একদিন হারিয়ে যাবে।
বদরগঞ্জ উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার ওমর ফারুক জানান;পহেলা বৈশাখে দেশিয় বাদ্য যন্ত্রের দেখা মেলে। এ সব দেশিয় বাদ্য যন্ত্র ঢাক ঢোল যেন হারিয়ে না যায় সেদিকে আমাদের সকলের লক্ষ্য রাখা উচিত। কেউ যদি দেশিয় ঐতিহ্য ঢাক-ঢোলকে টিকিয়ে রাখতে চায় তাকে সহযোগিতা করা উচিত।